Sunday 31 August 2025


বিনোদন

মর্জিনার জীবন: যেখানে দারিদ্র্য চিৎকার করে, তবু স্বপ্ন মরে না।

2025-05-03

যে বয়সে হাতে বই-খাতা থাকা উচিত, সে বয়সে হাঁড়ি-পাতিল, কাপড় কাচা আর অসুস্থ বাবার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করে ছোট্ট মেয়েটি—মর্জিনা খাতুন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের মোহনা পঞ্চায়েতের গয়েশপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া মর্জিনার জীবন যেন একটি মর্মান্তিক বাস্তবতার কাহিনি। বর্তমানে সে গোপালগঞ্জ রঘুনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার এক সমবয়সী ভাই স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। তবে মর্জিনার পরিবারের পরিস্থিতি যে কোনও সাধারণ পরিবারের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। বাবা মকসেদুল মন্ডোল মন্ডোল প্যারালাইসিসে আক্রান্ত, সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী না হলেও কাজকর্মে পুরোপুরি অক্ষম। মা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং বেশিরভাগ সময়ই বাড়ির বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়ান। সংসারে নেই কোনো স্থায়ী উপার্জনের উৎস। কোনোরকমে ভিক্ষা করে আর স্থানীয় কিছু মানুষের দয়া-সহানুভূতির ওপর নির্ভর করেই চলছে তিনজনের জীবন। তাদের বাসস্থানটি এতটাই জরাজীর্ণ ও অব্যবস্থাপূর্ণ যে সেটিকে বাসযোগ্য বলা কঠিন। বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পড়ে জল, বাড়ির আনাচে-কানাচেতে মাঝেমধ্যে দেখা যায় বিষধর সাপ। নেই কোন বিদ্যুৎ সংযোগ। শুধু তাই নয়, বাড়ির এমন অবস্থা যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখারও কোনও সুরক্ষিত জায়গা নেই। সবকিছু যেন এক অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মাঝে ডুবে থাকা জীবন। এই অবস্থাতেই মর্জিনার প্রতিদিন শুরু হয়, সকালে রান্না করে বাবাকে স্নান করিয়ে খাইয়ে সেবা যত্ন করে এবং ঘরের কাজ শেষ করে সে স্কুলে যায়। মর্জিনা পড়াশোনায় হয়তো খুব উজ্জ্বল নয়, কিন্তু তার আগ্রহ ও নিষ্ঠা প্রশ্নাতীত। স্কুলের শিক্ষকরা জানান, "ওর মতো মেয়ে আজকের দিনে দুর্লভ। এত কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি ওর টান আমাদের অভিভূত করে। ও যদি একটু সহায়তা পায়, ভবিষ্যতে অনেক কিছু করতে পারে।" গ্রামের কিছু সহৃদয় মানুষ মাঝে মাঝে খাবার, পুরনো জামাকাপড় বা কিছু অর্থ দিয়ে সহায়তা করেন। কিন্তু তা স্থায়ী নয়। মর্জিনার মতো শিশুরা সরকারি সাহায্য, সমাজের সচেতন শ্রেণির সহানুভূতি ও সংহতির অপেক্ষায় দিন গোনে। স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে জীবনধারণের ন্যূনতম চাহিদা—সবই এখানে সংগ্রামের সমার্থক। এই পরিবারটির কথা জানার পর স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়া জরুরি। সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প যেমন — ‘আবাস যোজনা’, ‘প্রতিবন্ধী ভাতা’ ‘অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা’ ইত্যাদি প্রকল্পের আওতায় এনে মর্জিনাদের জীবন কিছুটা হলেও সহজ করা সম্ভব। মর্জিনার জীবন একটি প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সমাজের সামনে—একটি শিশু কতটা দুঃখ সহ্য করে বড় হতে পারে? সেই প্রশ্নের জবাব আমাদেরই দিতে হবে, আজ না হোক কাল। কারণ, এই শিশুটির স্বপ্ন হারিয়ে গেলে শুধু একটিই জীবন নয়, হেরে যায় একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ, হারে যায় সমাজ। এই বিষয়ে মোহনা পঞ্চায়েত এর প্রধান সুনীল সরকার সরকার কে প্রশ্ন করলে,তিনি যানান,মকসেদুল তার সাহায্যের বিষয়ে কোন আবেদন যানান নি,তবে এক গ্রাম বাসী যানান মকসেদুল মন্ডোল বহুবার সেখানকার বিধায়ক তরাপ হোসেন মন্ডোল কে যানিয়েও কোন লাভ হয়নি।।।

ইন্টারনেটের যুগে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার সিনেমা হলগুলি

2025-04-18

দক্ষিণ দিনাজপুর: ডিজিটাল জেনারেশানের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম ইন্টারনেটের প্রভাবে বর্তমানে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম সিনেমা হল। সারা রাজ্যের পাশাপাশি দক্ষিন দিনাজপুর জেলাতেও বহু সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কোন কোন সিনেমা হল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এখন। এমন কিছু সিনেমা হল এর সন্ধানে বেরিয়ে ধরা পড়লো কিছু ছবি।দর্শক না থাকার দরুন দিনের পর দিন লোকসানে পড়া বিভিন্ন সিনেমাহলের মালিক কর্তৃপক্ষ। এক এক করে বহু পুরাতন সিনেমাহল গুলি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বছরের পর বছর সিনেমা হলের বহু কর্মী কাজ হারিয়ে অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর সহ বুনিয়াদপুরে ছিল অনেক সিনেমা হল। সে আজ থেকে বছর দশেক আগেকার কথা। ওই সময় এইসব সিনেমা হল গুলিতে রমরমা বাজার ছিল। সারাদিন কাজের পর সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার মজাটাই ছিল আলাদা। আর এইসব সিনেমা হল গুলিতে বহু কর্মী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু সে সব এখন ইতিহাস। সময়ের সাথে বদলাচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি। হলে গিয়ে সিনেমা দেখার জায়গাটা আজ করে নিয়েছে সিরিয়াল। ইন্টারনেটের যুগে সিনেমা হলে গিয়ে টানা তিন ঘন্টা এক জায়গায় বসে সময় নষ্ট করার পাশাপাশি পয়সা খরচ না করে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই ঘরে বসে পছন্দ অনুযায়ী সিনেমা দেখার জন্য আজ আর সিনেমা হলে দর্শক পাওয়া যায় না। তাই বছরের পর বছর লোকসান হতে হতে আজ এইসব এলাকার বহু সিনেমা হল গুলি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন হলের মালিক কর্তৃপক্ষ। তার বদলে সেই সিনেমা হল গুলি পরিণত হয়েছে গুদামে। আর জেলার কয়েকটি এলাকার সিনেমা হলগুলি দর্শক না হওয়ায় টিপটিপ করে লন্ঠনের আলোর মতো চলছে। বুনিয়াদপুরের এক বিনোদন প্রেমী বিশ্বপ্রীয় সাহা দুঃখের সাথে জানান, আগে প্রচুর মানুষ সিনেমা হলে আসতো সিনেমা দেখতে কিন্তু এখন আর আসে না তার কারণ একটাই এখন ভালো কোনো সিনেমা তৈরি হচ্ছে না সমস্ত তাই হচ্ছে শহরকেন্দ্রিক। তাই গ্রাম বাংলার মানুষরা এই সিনেমা দেখতে আর আসছে না সিনেমা হলে। এর পাশাপাশি হাতের মুঠোয় ইন্টারনেট মোবাইল এবং ইউটিউব চলে আসায় নিত্যনতুন সিনেমাটা তারা পেয়ে যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে তাই আর তাদের আসতে হচ্ছে না সিনেমা হলে ফলে আজ সিনেমা হল গুলি ঢুকতে বসেছে। আগামীতে লাভের মুখ না দেখতে পেলে সিনেমা হল গুলি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হল মালিকের একাংশ। অপরদিকে জেলার বুনিয়াদপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী গৌরী সিনেমা হলের মালিক ফান্টু সেন জানান কতদিন তারা আর লোকসানে বিনোদন দিবেন মানুষকে নিজেদের ঘরের পয়সা ঢেলে। কারণ একটা সিনেমা আনতে যেমন প্রচুর খরচ সাপেক্ষ তেমনি সারা মাসে সিনেমা চালিয়ে তার সিকিভাগও লাভ উঠে আসে না। তাই বাধ্য হয়ে সিনেমা হল তারা বন্ধ করে দিয়েছে কিন্তু কিছুই করার নেই প্রচুর মানুষ বেকার হয়ে গেছে এখন সেই সিনেমা হলে মালপত্র রাখা হয়। অপরদিকে জেলার এক উঠতি যুবক শান্তনু ঘোষ জানান, একটা সময় তারা বাড়ির সকলে মিলে এসে সিনেমা হল গুলিতে সিনেমা দেখতে আসতো কত মজা হত কিন্তু আজ সেই মজা নেই কারণ এখন সেই সিনেমা হল গুলি আগের অবস্থায় নেই। পাশাপাশি হাতের মুঠোয় এখন ইন্টারনেট মোবাইল চলে আসায় এখন সব সিনেমায় সঙ্গে সঙ্গে মানুষ দেখে ফেলছে ফলে সিনেমা মুখী হওয়ার প্রবণতা কমে গেছে মানুষের মধ্যে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। অপরদিকে বর্তমানে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে জেলার বুনিয়াদপুর গৌরী সিনেমা হলের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পান বিড়ি সিগারেটের দোকানদার নিতাই সরকার জানালেন তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই সিনেমা হলের পাশে দোকান করছেন একটা সময় প্রচুর মানুষ সিনেমা দেখতে আসতো তার চোখে দেখা হিমশিম খেতে হত মানুষকে লম্বা লাইনে টিকিট কাটার ধুম ছিল আলাদাই কিন্তু আজ সেই সব হারিয়ে গেছে এখন হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন দর্শক ভীড় জমান সিনেমা হলে।একটা সময় নির্জন জায়গায় টানা তিন ঘন্টা সকলের অজান্তেই প্রেমিক – প্রেমিকাদের উৎসাহ যোগাতে নির্জন জায়গায় টানা তিন ঘন্টা নিরিবিলি তে প্রেমিক যুগল সিনেমা দেখার জন্য বক্সের ভাড়া ছিল আকাশ ছোঁয়া। এইভাবে লোকসান ঠেকাচ্ছিলেন হল কর্তৃপক্ষরা। কিন্তু সেখানেও বাধা দিল পুলিশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সিনেমা হল গুলির ওইসব বক্সে রেট করে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েছে অনেক প্রেমিক প্রেমিকাও। সব মিলেয়ে বর্তমানে সিনেমা হল গুলি এখন ধুঁকছে ।

প্রত্যেক বছরের মতো এবছরেও বীরভূমের পুরন্দরপুরে ইউফোরিয়া যুব গোষ্ঠীর উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ১৮ ফুটের মাতৃপ্রতিমা।

2025-02-03

প্রত্যেক বছরের মতো এবছরেও বীরভূমের পুরন্দরপুরে ইউফোরিয়া যুব গোষ্ঠীর উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ১৮ ফুটের মাতৃপ্রতিমা। এবছর এই পুজো ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করেছে। পূজা কমিটি এর মুল উদ্যোগতা দেবরাজ সাহা বলেন ঠাকুরের কাছে মাথা নিচু ইউফোরিয়া সরস্বতী সবার উঁচু । এই লক্ষ্যে বিগত বছরের মতো এবছরও আমরা আয়োজন করেছি বড় সরস্বতী প্রতিমা । পূজা চারদিন বিভিন্ন দূরদূরান্ত থেকে মানুষের জমায়েত হয়। প্রত্যেক বছর আমরা সামাজিক কাজকর্ম করে থাকি এবছর আমরা আয়োজন করেছি Health View ডাইগোনেস্টিক এর সহযোগিতায় বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা শিবির। আমাদের কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না । এবছর রাজবেশে ইউফোরিয়ার রানী মা কে নিরঞ্জন করা হবে সঙ্গে থাকবে ব্যান্ড এবং আতসবাজি।

কোচবিহার কলেরপাড় প্রেরণা সংঘের সরস্বতী পুজোর অভিনব মণ্ডপ বানিয়ে তাক লাগালো ।

2025-02-03

কোচবিহার কলেরপাড় প্রেরণা সংঘের সরস্বতী পুজোর অভিনব মণ্ডপ বানিয়ে তাক লাগালো । এবার আকর্ষণীয় থিম সংবাদ প্রবাহ পুরনো খবরে কাগজ পাটের চট আর নানা ঐতিহাসিক তথ্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছে সংবাদপত্রের বিবর্তন এবং সময়ের পরিবর্তন সমাজের নানা গল্প সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রতি ছবি সংবাদপত্রের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সমাজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিছবি।




Follow us on                  

About Us
Sahin Bangla, a pioneering digital platform, is revolutionizing the way citizens access news, information, and services.
Contact Us
Address : Cooch Behar, Cooch Behar
Call :+91 96413 64901
WhatsApp : +91 7797659493
Email : info@sahinbangla.com
Important Link
  • Disclaimer
  • Privacy Policy

  • Total Visitor : 595913